সৌদি আরবে দুর্নীতি-বিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০৬০০ কোটি ডলার আদায় করেছে দেশটির সরকার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল এই তথ্য দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি অনলাইন।
খবরে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সৌদ আল মোজেব বলেছেন, গত বছরের ৪ঠা নভেম্বরের পর ৩৮১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৫৬ জন এখনও কারাগারে রয়েছেন। বাকিদের কেউ কেউ এমনিতেই মুক্তি পেয়েছেন।

বাকিরা দোষ স্বীকার করে বিপুল সম্পত্তি বা অর্থ দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন। তবে কারা কী উপায়ে মুক্তি পেয়েছেন তাদের নাম বলেননি অ্যাটর্নি জেনারেল। তবে এদের মধ্যে প্রিন্স, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীরা রয়েছেন বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি, বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল ও আরব স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এমবিসির মালিক আলওয়ালিদ আল-ইবরাহিমকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তারা রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত বিলাসবহুল রিটজ-কার্লটন হোটেলে বন্দী ছিলেন। তাদের উভয়েই দাবি করেছিলেন, তারা নির্দোষ। তবে সৌদি সরকারী সূত্র জানিয়েছে, কিছু ‘অনিয়মে’র দোষ স্বীকার করে, সরকারের সঙ্গে আর্থিক বন্দোবস্তের মাধ্যমেই তারা মুক্তি পেয়েছেন। তবে এই অনিয়মগুলো নির্দিষ্ট করে বলেনি কেউ।
অন্য যারা মুক্তি পেয়েছেন বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহ। তিনি মৃত বাদশাহ আবদুল্লাহর সন্তান। কিছু সূত্র জানিয়েছে, ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যের সম্পত্তি সরকারের কাছে হস্তান্তর করার পরই মুক্তি মিলেছে তার। আরও রয়েছেন ইবরাহিম আল-আসাফ নামে একজন মন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোজেব দাবি করেছেন, এখনও আটককৃত ৫৬ জনের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতায় আসতে তিনি রাজি হননি। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে হয় আরও ফৌজদারি মামলা চলছে। নয়তো তাদের ব্যাপারে আরও তদন্ত করা বাকি আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ৫৬ জনকে রিটজ কার্লটন হোটেল থেকে সরিয়ে জেলখানায় নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে রিটজ কার্লটন হোটেল জনসাধারণের জন্য ফের উন্মুক্ত হবে।
গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী মোহাম্মেদ আল-জাদান বলেছেন, আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে যেসব অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে, তা ব্যয় করা হবে একটি বিশেষ প্রকল্পে। ১৩৩০ কোটি ডলারের ওই প্রকল্পের মাধ্যমে সৌদি নাগরিকদেরকে জীবনযাপনের ক্রমবর্ধমান ব্যায়ের সঙ্গে তাল মেলাতে সাহায্য করা হবে।
সৌদি আরবের এই দুর্নীতি-বিরোধী অভিযানের মূলে রয়েছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ দেশটির বাদশাহ সালমানের পুত্র। নভেম্বরে দেশের প্রভাবশালী প্রিন্স, সরকারী কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের দুর্নীতির অভিযোগে ধরপাকড় শুরু হলে অনেক বিশ্লেষকই বলেছিলেন, এই অভিযান যুবরাজ মোহাম্মদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার নামান্তর। তবে যুবরাজ মোহাম্মদ এই অভিযোগকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, জুনে তিনি যখন বাদশাহর উত্তরাধিকারী মনোনীত হন, তখন আটককৃতদের অনেকেই তার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের আটক করতেও সরকার কোনো কসুর করেনি।

আরও পড়ুনঃ   ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিমান বিধ্বস্ত, ২ পাইলট নিহত

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

4 × 2 =