আশরাফ ইসলাম:

কলকাতার সোনাগাছি পতিতালয়ের যৌনকর্মী ছিলেন রাধা। ২৮ বছরের সঞ্জয় মিস্ত্রি নামের এক যুবকের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। কিন্তু ওই যুবকের হাতেই শেষ পর্যন্ত তাকে মুত্যুবরণ করতে হয়েছে। পুলিশ জানায়, সঞ্জয়কে জেরা করা হলে সঞ্জয় খুনের কথা স্বীকার করে।

জানা গেছে, সঞ্জয়ের বাসা ভারতের আন্দামানে হলেও ব্যবসায়ের কাজে তিনি প্রায়ই কলকাতায় আসতেন। আর সেখানেই রাধা ঘোষ (৩৬) নামের এক যৌনকর্মীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রাধা সোনাগাছির যৌনকর্মী ছিলেন।

রাধার স্বামীর নাম প্রদীপ ঘোষ। রাধার ৭ বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। জানা গেছে, সঞ্জয়ের সঙ্গে রাধার সম্পর্ক হওয়ার পর রাধা প্রদীপকে ভাই বলে পরিচয় করিয়ে দেয়। কিন্তু তার ৭ বছরের মেয়ের কথা সঞ্জয়কে জানায়। সঞ্জয়ের তার মেয়েকে নিয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। সঞ্জয় আর রাধার সম্পর্ক দিন দিন গাঢ় হতে থাকে।

সঞ্জয় পুলিশকে জানিয়েছেন, রাধাকে তিনি প্রচণ্ড ভালোবাসতেন। সে রাধার জন্য আর আন্দামনের জায়গা-জমি সব ২৭ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন। আর সেই টাকা রাধার পেছনে খরচ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে রাধার সঙ্গে সঞ্জয় এক সাথে থাকতে চাইলে রাধা তার স্বামী আর সন্তানকে ছেড়ে সঞ্জয়ের কাছে চলে আসে। তারা একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু দুই মাস পর রাধা দমদমে তার বাবার বাড়িতে ফিরে যায়।

সঞ্জয়ের ভাষ্য মতে, তার টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় রাধা তাকে ছেড়ে দমদমের বাড়িতে চলে যায়। পরে রাধা যাকে ভাই (প্রদীপ) বলে ছিলেন তার সাথে থাকতে শুরু করেন। রাধা সঞ্জয়কে বলেন, সে আর সঞ্জয়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না। সঞ্জয় জানতে পারে প্রদীপ তার ভাই নয় স্বামী।

এরপর ২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার স্বামী প্রদীপ বাসায় ফিরে দেখেন রাধা মৃত অবস্থায় ঘরে পড়ে রয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশকে জানানো হলে, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং সঞ্জয়কে সেই রাতেই গ্রেফতার করে। সঞ্জয় পুলিশি হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

19 − 15 =