দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২২ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিদ্রোহী পক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল দ্রুত বিচার আদালতে মামলাটি করেন।

গতকালই ওই আদালতের বিচারক রুপন কুমার দাস মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল; সহসভাপতি আরফান আলী মোল্লা, সাদেকুল আলম, আতাউর রহমান ও জিয়াউল হক; যুগ্ম সম্পাদক আনিসুর রহমান, আবুল কাশেম ও খন্দকার রাশেদুল আলম; সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হামিদ তালুকদার, আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান; প্রচার সম্পাদক মনিরুল হক, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনিরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, জেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান; কর্মী মনি ব্যাপারী, শাহীন তালুকদার, ইমন, সুমন, আবদুল্লাহেল কাফি ও তানভীর আহম্মেদকে আসামি করা হয়েছে।

বাদী হাসানুজ্জামিল শাহীন মামলায় অভিযোগ করেন, গত ২৯ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বালুচরায় দলের কর্মিসভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে তাঁরা রওনা হন। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে তাঁরা ফিরে আসেন। পরে মিছিলসহ ভিক্টোরিয়া রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সভাপতি শামছুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল তাঁদের হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে মিছিলের দিকে ফাঁকা গুলি করেন। অন্য আসামিরা মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের মারধর করেন। পরে তাঁরা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করেন এবং সেখানে ত্রাস সৃষ্টি করেন।

প্রতিপক্ষের মিছিলে গুলি এবং দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করার অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, সরকারি দলের ইন্ধনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কিছু লোক দলীয় নেতা-কর্মীদের হয়রানি করার জন্য এই মামলা করেছে। এই চক্রটিকে দিয়ে সরকারি দল জেলা বিএনপিকে নানাভাবে হয়রানি করছে।

আরও পড়ুনঃ   সংলাপে 'নির্বাচনকালীন সরকার' প্রশ্নে ছাড় দিতে নারাজ আ'লীগ

এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী হাসানুজ্জামিল শাহীন জানান, অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে জেলা বিএনপির কমিটি করা হয়েছে। সে জন্যই তাঁরা এই কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। কারও ইন্ধনে নয়, সন্ত্রাসী ঘটনার শিকার হয়েছেন বলেই মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বাদী হয়ে হাসানুজ্জামিলসহ বিদ্রোহী পক্ষের ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত ওই মামলাটি পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত বছরের ২৬ মে কেন্দ্র থেকে জেলা বিএনপির ৩০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে শামসুল আলমকে সভাপতি ও ফরহাদ ইকবালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সভাপতি শামসুল আলম আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কারাবন্দী সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিনের ভাই।

বিদ্রোহীদের অভিযোগ, সালামের পরিবার-বিরোধীরা কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পক্ষ হাসানুজ্জামিলসহ বিদ্রোহী পক্ষের চারজনকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

ten + eighteen =