ইলিয়াস ও তার বন্ধু সিফাত আদনান ৩ জন ডেলিভারি এজেন্ট নিয়ে ২০১৫ সালে ‘পাঠাও’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন। এক বছরের মধ্যে তাদের ডেলিভারি টিম ৩ জন থেকে ৬০ জনে পরিণত হয়। এর পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীতে ৫টি শাখা খুলেন তারা। এখন বাইকে রাইড দেওয়ার জন্য ২০০টি মোটরযান রয়েছে তাদের। এসব বিষয় নিয়ে ‘পাঠাও’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মো. ইলিয়াস কথা বলেছেন ।

প্রশ্নঃ  পাঠাও এর শুরু কবে থেকে?

হুসেইন মো. ইলিয়াস: ২০১৫ সালের মার্চ মাসে পাঠাও যাত্রা শুরু করে। এর আগে আমরা তিন বন্ধু মিলে বাংলাদেশের বড় বড় সমস্যা কী এবং তা কীভাবে সমাধান করা যায় এ নিয়ে কাজ করতাম। তখন আমাদের ‘ডেলিভারি সার্ভিস’ দেওয়ার জন্য পাঠাও এর কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিকে আমরা ৪/৫ জন মানুষ নিয়ে কাজ শুরু করি। ৪০ টাকায় আমরা পণ্য ডেলিভারি করতাম। এর একবছর পর বাইকে যাত্রী পরিবহণ সেবা দেওয়া শুরু করলাম। প্রথম দিকে কাজ করার পর দেখতাম অনেকেই যাত্রী পাচ্ছেন না অথবা তার থেকে যেটুকু কাজ বের করার দরকার ছিল তা করতে পারছিলাম না। তখন আমরা ৮ ঘণ্টা কাজের একটি প্ল্যান করি।

প্রশ্নঃ  প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? 

হুসেইন মো. ইলিয়াস: প্রথমদিকে আমরা ফোন দিয়ে অর্ডার করতাম। কে কোথায় যাবে তা যাত্রীর থেকে শুনে আমাদের রাইডারকে ফোন করে বলে দিতাম। কিন্তু সেটা অনেক কঠিন ছিল। এরপর অ্যাপভিত্তিক বাইক রাইডের সেবা চালু করলাম ২০১৬ সালের অক্টোবরে।

প্রশ্নঃ  অক্টোবরে যখন শুরু করলেন তখন কতজন লোক নিয়ে শুরু করেছিলেন? 

হুসেইন মো. ইলিয়াস: আমরা অ্যাপভিত্তিক সেবা যখন শুরু করি তখন আমাদের ড্রাইভার ছিল পাঁচজন। এখন সে সংখ্যা ২০০ জনে এসে পৌঁছেছে।

প্রশ্নঃ  এত দূর উত্থান হওয়ার রহস্য কী?

আরও পড়ুনঃ   এসডিজি অর্জনে বিডা জেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে

হুসেইন মো. ইলিয়াস: অবশ্যই প্রযুক্তি। আগে দেখেন আমাদের ফোন দিয়ে এসব কাজ করতে হতো। কে কোথায় আছে তা খোঁজ নিতে হতো। কিন্তু এখন তা আর করতে হয় না। এখন কেউ কোথাও যেতে চাইলে তার অ্যাপ থেকেই অর্ডার দিতে পারছেন। আশেপাশে থাকা ‘পাঠাও’ ড্রাইভাররা তাদেরকে ফোন দিয়ে বা জিপিএস-এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন।

প্রশ্নঃ  যে ২০০ জন লোক আপানাদের সাথে কাজ করছেন তাদের সাথে পাঠাও এর চুক্তি কী হয়?

হুসেইন মো. ইলিয়াস: প্রথম ১০০ জন মানুষকে আমরা নিয়োগ দিয়েছি। তাদের সবাইকে একটি করে বাইক দিয়েছি। মাসে তারা ১১ হাজার টাকা বেতন পান এবং প্রতিদিন রাইড দিয়ে যে আয় করেন সেটা ৫০-৫০ করে ভাগ করে নেই। আর পরের ১০০ জন আমাদের সাথে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন। তারা কোনো বেতন পান না কিন্তু প্রতিদিন যে রাইড দিয়ে আয় করেন তার ৮০ শতাংশ পান ফ্রিল্যান্সাররা আর আমরা পাই ২০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের বাইক থাকতে হবে।

প্রশ্নঃ  আপনারা কোনো ইনভেস্টমেন্ট পেয়েছেন কী না?

হুসেইন মো. ইলিয়াস: হ্যাঁ পেয়েছি। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েরও বিনিয়োগ পেয়েছি। কিন্তু কারা বিনিয়োগ করেছেন তাদের নাম বলতে চাই না।

প্রশ্নঃ  বাইক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনারা কী কী ধরনের চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হয়েছেন? 

হুসেইন মো. ইলিয়াস: অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি আমরা। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ট্র্যাফিক জ্যাম। আমরা যদিও এই জ্যাম নিয়ে ২০১৫ সালেই আরও একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছিলাম। সেটা দুই মাসের মতো করতে পেরেছিলাম। এরপর ‘যাবে’ নামে আমরা আরও একটি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরু করি সিএনজি নিয়ে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিআরটিএ-এর সাথে কাজ করার পরিস্থিতি তৈরি করা। নতুন একটি ট্রান্সপোর্টেশন আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে এটা নিয়ে এখন নীতিমালা হওয়া দরকার।

আরও পড়ুনঃ   দেশের প্রত্যেক উপজেলায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা খোলা হচ্ছে

প্রশ্নঃ  এখন আপনাদের প্রতিদিন কী পরিমাণ কল আসে?

হুসেইন মো. ইলিয়াস: গত আড়াই মাস কাজ করেই আমাদের এখন প্রতিদিন প্রায় ৭ শতাধিক কল আসে।

প্রশ্নঃ আগামী দিনে আপনাদের পরিকল্পনা কী? 

হুসেইন মো. ইলিয়াস: আগামী দিনে আমাদের বাইকের সংখ্যা অনেক বেশি বাড়ানোর ব্যাপারে কাজ করছি। এখানে হাজার হাজার মানুষ কাজ করবে। যাতে করে কেউ অ্যাপ ওপেন করে কল করার দুই মিনিটের মধ্যেই বাইক চলে আসে। ২০১৭ সালের মধ্যে আমাদের সাথে এক হাজার বাইক থাকবে বলে আশা করছি।

সম্পাদনা: ফারজানা রিংকী

আরো পড়ুন পাঠাওতে ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে গো-জেক

Comments

comments

1 COMMENT

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − 6 =