ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে এসব হচ্ছেটা কী? সাংসদপুত্র হওয়ার যোগ্যতা (!) দিয়ে কদিন আগে দিল্লি দলে ঢোকার খবরে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল প্রতিযোগিতাটি। এবারের ঘটনাটা অবশ্য মাঠের ভেতরকার। তবে সেটাও কম বিতর্কিত নয়, রীতিমতো ‘লঙ্কাকাণ্ড’!
বিশাখাপট্টনমে কর্ণাটক-হায়দরাবাদ ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল কর্ণাটক। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বল মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান কর্ণাটকের ব্যাটসম্যান করুন নায়ার। হায়দরাবাদের ফিল্ডার মেহেদী হাসান বল ফেরত পাঠানোর আগে ২ রান নেন কর্ণাটকের দুই ব্যাটসম্যান। কিন্তু ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি কুড়োনোর সময় মেহেদী বাঁ পা দড়ির ওপর ছিল!
মাঠের আম্পায়ার উলহাস গান্ধে অবশ্য তা খেয়াল করেননি, আর তাই থার্ড আম্পায়ারের সাহায্য নেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেননি। ধারাভাষ্যকার অমল মজুমদার অবশ্য সোজাসাপ্টাই বলে দেন, ‘অবশ্যই! অবশ্যই এটা বাউন্ডারি। খেলোয়াড়টি নিজেও (মেহেদী হাসান) তা জানে।’ ঘটনার এখানেই শেষ নয়।

৫ উইকেটে ২০৩ রানের স্কোর গড়ার পর ফিল্ডিংয়ে নামে কর্ণাটক। রাগে ফুঁসতে থাকা কর্ণাটক অধিনায়ক বিনয় কুমার সেই বাউন্ডারি নিয়ে মাঠেই দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন আম্পায়ারদের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বিনয়ই জয়ী—আরও ২ রান যোগ হয় কর্ণাটকের ইনিংসে। মানে, ৫ উইকেটে ২০৫ রান। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত কর্ণাটকই জিতেছে, কিন্তু আন্দাজ করুন তো কত রানে? হ্যাঁ, সেই ২ রানেই!
ক্রিকেটের আপ্তবাক্য ‘দ্য গেম ইটসেলফ ইজ আ গ্রেট লেভেলার’—কথাটাই প্রমাণ হলো এ ম্যাচে। হায়দরাবাদের স্পিনার মেহেদী কর্ণাটকের ২ রান ‘কেটে’ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটা তো পারেননি, উল্টো তাঁর দলই হারল ২ রানে।
কিন্তু হায়দরাবাদ অধিনায়ক আম্বাতি রাইডু সেটা মানবেন কেন? ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও সতীর্থদের নিয়ে ‘সুপার ওভারে’র দাবি তুলে তিনি থেকে যান মাঠে। তাতে অবশ্য হায়দরাবাদের কোনো লাভ হয়নি। কিন্তু ক্ষতি হয়েছে পরের ম্যাচের।

কর্ণাটক-হায়দরাবাদ ম্যাচ শেষে একই মাঠে খেলার কথা ছিল অন্ধ প্রদেশ-কেরালার। রাইডুরা মাঠে অনেকক্ষণ অবস্থান করায় পরের ম্যাচটা নির্ধারিত সময়ে শুরু হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারের ম্যাচে মুখোমুখি হয় অন্ধ্র প্রদেশ-কেরালা। এ নিয়ে রাইডুর ব্যাখ্যা, ‘পরের ম্যাচ থামানোর কথা আমরা ভাবিনি। আমরা শুধু সুপার ওভারের দাবি করেছি। কারণ ম্যাচটা শেষ হয়নি। আমরা মাঠে গিয়ে তাই সুপার ওভারের প্রস্তুতিতে গা গরম শুরু করি।’
সেই বাউন্ডারি নিয়ে রাইডুর দাবি, ‘আমি নিয়ম জানি। সে (আম্পায়ার) যদি তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টে (স্কোর) ফেলত, তাহলে ব্যাপারটা ঠিক থাকত। কেউ আউট হলে মাঠের ভেতরে গিয়ে যদি দেখা যায় আউট ছিল না, তাহলেও কিন্তু ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে আনা যায় না। নো-বলের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্তটা ঠিক না হলে পরে কিন্তু স্কোর কমানো কিংবা বাড়ানো যায় না। আমি জানি না ঠিক কী ঘটেছে তবে আমরা ২০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করেছি। ঠিক এ কথাটাই আম্পায়ারকে বলতে চেয়েছি, এ জন্য সুপার ওভারের অপেক্ষায় ছিলাম যেটা হলো না।’

আরও পড়ুনঃ   আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে যাবেই!

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × three =