বিরাট কোহলি ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২০১৪ সাল থেকে। তাঁর ২১ টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে ১৪টি পেয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে। নেতৃত্বের ভার নিয়ে তাঁর ব্যাট দ্যুতি ছড়ালেও দল গড়ায় কোহলি ঠিক কতটুকু মুনশিয়ানা দেখাতে পেরেছেন? প্রশ্নটি তুলেছেন ভারতের খ্যাতনামা ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার এবং বিশ্লেষক হর্শা ভোগলে। তাঁর মতে, ভারতের টেস্ট দলে ধারাবাহিক পরিবর্তন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে প্রথম টেস্টে শিখর ধাওয়ানকে খেলায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু পরের টেস্টে তাঁকে দল থেকে ছেঁটে লোকেশ রাহুলকে খেলানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম টেস্টে দারুণ বোলিং করা ভুবনেশ্বর কুমারকেও বসিয়ে খেলানো হয় ইশান্ত শর্মাকে। তারপরও ফল পাল্টাতে পারেননি কোহলি। প্রথম দুই টেস্ট হেরে সিরিজ খুইয়েছে ভারত। টেস্ট দলে কোহলির এই ধারাবাহিক পরিবর্তনের অভ্যাস কিন্তু নতুন কিছু না। নেতৃত্ব পাওয়ার থেকে এ পর্যন্ত ৩৪ টেস্টে কোহলি কখনো টানা দুই টেস্টে এক দল খেলাননি!

কিংবা ১১ খেলোয়াড়ের একটি ‘সেট’ কোহলি কখনো দ্বিতীয়বার মাঠে নামাননি। অর্থাৎ অধিনায়ক হিসেবে প্রতি টেস্টেই আলাদা আলাদা দল খেলিয়েছেন কোহলি। কেপটাউন এবং সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে ভারতের দুটি আলাদা একাদশই তার সাম্প্রতিকতম প্রমাণ। তবে কোহলি যে এসব ক্ষেত্রে পুরোপুরি স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছেন, তা কিন্তু নয়। খেলোয়াড়দের চোট কিংবা নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়াও কোহলি দল গঠনে প্রভাব ফেলেছে।

অধিনায়ক হিসেবে এই ৩৪ টেস্টে ২৮ জন আলাদা আলাদা খেলোয়াড় মাঠে নামিয়েছেন কোহলি। তাঁর অধীনে টেস্টে অভিষেক ঘটেছে ছয়জনের—করণ শর্মা, লোকেশ রাহুল, নোমান ওঝা, জয়ন্ত যাদব, করুণ নায়ার, হার্দিক পান্ডিয়া ও জসপ্রীত বুমরা। কোহলির নেতৃত্বে ভারতের টেস্ট দলে সবচেয়ে নিয়মিত মুখ রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৩৩ টেস্ট)। এরপর আজিঙ্কা রাহানে (৩০ টেস্ট), চেতেশ্বর পূজারা ও ঋদ্ধিমান সাহা (২৯ টেস্ট), মুরালি বিজয় (২৫ টেস্ট), উমেশ যাদব (২৪ টেস্ট) ও রবীন্দ্র জাদেজা (২২ টেস্ট)।

আরও পড়ুনঃ   সর্বোচ্চ রেটিংয়ে শীর্ষে কোহলি, দুইয়ে ডি ভিলিয়ার্স

দল নিয়ে কোহলির এই অনবরত কাটাছেঁড়ায় খেলোয়াড়েরা নিশ্চয়তার অভাবে ভুগছেন বলে মনে করছেন হর্শা ভোগলে। তাঁর মতে, রাহানে, রাহুল ও ধাওয়ান টেস্ট দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকায় তাঁদের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়েছ। বিদেশের মাটিতে রাহানের টেস্ট গড় পঞ্চাশের ওপরে হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাঁকে কোহলি এখনো বিবেচনা করেননি। ভোগলের ভাষ্য, ‘কোচ এবং অধিনায়কের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু কোনো ক্রিকেটারকে দলে অনিরাপদ অবস্থানে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।’

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × four =