রড তৈরি করা হয়েছে ৪০ গ্রেডের। কিন্তু গায়ে দেয়া হয়েছে ৬০ গ্রেডের সিল। চকচকে রং আর স্পষ্ট সিল দেখে টনপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দাম দিয়ে এ রড কিনে নিচ্ছেন গ্রাহক। তৈরি করছেন মাথা গোঁজার ঠিকানা। এক শ্রেণির খুচরা বিক্রেতার পরোচনায় এমন প্রতারণায় হাত বাড়চ্ছে নামি-দামি রি-রোলিং মিলমালিক। প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত বাড়তি অর্থ ভাগ করে দিচ্ছে উভয় পক্ষ।

অভিনব প্রতারণার এ তথ্য আজ গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করেছে স্বয়ং মিলমালিকদেরই সংগঠন বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, এ বিষয়ে বিএসটিআইসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

সমিতির মহাসচিব আবুল কাশেম মজুমদার এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে বেশকিছু রি-রোলিং মিলে আন্তর্জাতিক মানের রড প্রস্তুত করছে, যা বিএসটিআই অনুমোদিত ও বুয়েট পরিক্ষীত। কিন্তু দোকানদারদের যোগসাজেশে কিছু অসাধু রি-রোলিং মিল মালিক ভুয়া ৫০০ ডব্লিউ (টিএমটি), ৪০০ ডব্লিউ (৬০জি) গ্রেড সিল মেরে রড বাজারজাত করছেন। এসব রড দিয়ে ভবন কিংবা স্থাপনা তৈরি করে গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন। এমন কি প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকাও রয়েছে।

প্রতারণার বিষয়টি ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিএসটিআইকে জানানো হয়েছে জানিয়ে শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিএসটিআই অভিযান চালিয়ে ১৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করলেও ঢাকায় কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভুয়া ৫০০ ডব্লিউ (টিএমটি), ৪০০ ডব্লিউ (৬০জি) গ্রেড সিল মেরে রড় তৈরি ও বাজারজাত বন্ধ করে অসাধু রি-রোলিং মিল মালিক ও বিক্রয়কারীদের রিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × one =