শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না বাংলাদেশের। মিরপুরে আজ শনিবার ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৭৯ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শ্রীলঙ্কা। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা ঠিক ৫০ ওভারে ২২১ রানে অল আউট হয়েছিল। জবাবে বাংলাদেশ ৪১.১ ওভারে ৯ উইকেটে করে ১৪২ রান। সাকিব আল হাসান ইঞ্জুরিতে থাকায় তিনি ব্যাট করতে পারেননি। দুর্দান্ত সূচনা করেও বাংলাদেশ শেষ দুটি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে আসরটি শেষ করল। অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করলেন শেহান মাদুশঙ্কা।

ব্যাট হাতে আজ লড়াই করেছেন একমাত্র মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনিই শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন। তিনি করেছিলেন ৭৬ রান। ৯২ বল খেলে তিনি এই স্কোর করেন। এছাড়া মুশফিকুর রহীমের ২২ এবং মোহাম্মদ মিথুনের ১০ ছিল দুই অঙ্কের স্কোর। বাকিরা সবাই সিঙ্গেল ডিজিটেই শেষ করেন।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৩টি উইকেট নেন মধুশঙ্কা। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন চামিরা ও ধনঞ্জয়।

ফাইনাল জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ২২২ রানের টার্গেট দিলো শ্রীলঙ্কা
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ২২২ রানের টার্গেট দিয়েছে সফরকারী শ্রীলঙ্কা। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২২১ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা।

লিগ পর্বের চার ম্যাচেই টস ভাগ্যে জিতেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। কিন্তু ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস লড়াইয়ে জিততে পারেননি ম্যাশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমাল।

দলে তিনটি পরিবর্তন এনে ফাইনাল শুরু করে বাংলাদেশ। লিগ পর্বের শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলা ওপেনার এনামুল হক বিজয়, দুই অলরাউন্ডার নাসির হোসেন ও আবুল হাসান শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে সুযোগ পাননি। তাদের পরিবর্তে ফাইনালে সুযোগ পান মোহাম্মদ মিথুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ।

আরও পড়ুনঃ   কোহলির খাবারের তালিকায় কি কি থাকে জানেন?

বল হাতে বাংলাদেশের ইনিংস শুরু করেন মিরাজ। তার প্রথম ডেলিভারিতেই বাউন্ডারি মারেন শ্রীলংকার ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা। অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। মিরাজের বলেই আউট হন গুনাথিলাকা। ১১ বলে ৬ রান করে ফিরেন তিনি।

দলীয় ৮ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর শ্রীলঙ্কার হাল ধরেন আরেক ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ও কুশল মন্ডিস। উইকেট সেট না হয়েই মারমুখী রূপ নেন মেন্ডিস। মিরাজের তৃতীয় ওভারে প্রথম চার ডেলিভারিতে ৬, ৪, ৬, ৬ রান তুলে নেন মেন্ডিস। তার এমন মারমুখী ব্যাটিং বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিলো না। পরের ওভারেই বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফির বলে আউট হন মেন্ডিস। ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় মাত্র ৯ বলে ২৮ রান করেন মেন্ডিস।

দলীয় ৪২ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর শ্রীলঙ্কাকে বড় জুটি এনে দেন থারাঙ্গা ও উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলা। এজন্য বেশ সর্তক ছিলেন তারা। উইকেট ধরে রাখাতেই মনোযোগ ছিলেন শ্রীলংকার দুই ব্যাটসম্যান। এ জুটির কল্যাণেই ২২তম ওভারের প্রথম বলে শ্রীলংকার স্কোর শতরানে পৌঁছায়।

তিন অংকে পৌঁছানের কিছুক্ষণ পরই তৃতীয় উইকেট হারাতে হয় শ্রীলংকাকে। বল হাতে আক্রমণে এসে নিজের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে এই জুটিকে বিচ্ছিন্ন করেন সাইফউদ্দিন। ৪টি চারে ৫৭ বলে ৪২ রান করে থামেন ডিকবেলা। তৃতীয় উইকেটে ১০৭ বলে ৭১ রান যোগ করেন থারাঙ্গা ও ডিকবেলা।
ডিকেবলা যখন ফিরে যান তখন ৩৬ রানে অপরাজিত থারাঙ্গা। এ সময় ক্রিজে থারাঙ্গার সঙ্গী হন অধিনায়ক চান্ডিমাল। দলপতিকে নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৭তম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন থারাঙ্গা। এজন্য ৮৭টি বল মোকাবেলা করেন থারাঙ্গা। এরমধ্যে ব্যক্তিগত ৩৯ রানে জীবনও পান তিনি।

হাফ-সেঞ্চুরির পর নিজের ইনিংস বড় করার চেষ্টাতেই ছিলেন থারাঙ্গা। কিন্তু ৩৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুরের বলে লেগ বিফোর ফাঁদে পড়েন থারাঙ্গা। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে আউট হন থারাঙ্গা। কিন্তু রিভিউ নিয়ে এ যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। বেঁচে গিয়েও লাভ হয়নি থারাঙ্গা। পরের ডেলিভারিতেই ফিজের বলে বোল্ড হন থারাঙ্গা। ৯৯ বল মেকাবেলায় ৫টি বাউন্ডারিতে ৫৬ রান করেন দলটির সাবেক এ অধিনায়ক। থারাঙ্গার শিকারের মাধ্যমে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের ২৭তম ম্যাচে ৫০তম উইকেট পূর্ণ করেন মোস্তাফিজ।

আরও পড়ুনঃ   ধর্ষণের অপরাধে সাবেক ক্রিকেটারের ১৮ বছরের জেল

থারাঙ্গাকে ফিরিয়ে দেয়ার পর শ্রীলঙ্কার মেরুদণ্ডে জোড়া আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসার রুবেল হোসেন। মারমুখী ব্যাটসম্যান থিসারা পেরেরা ও আসেল গুনারত্নেকে নিজের শিকার বানিয়ে শ্রীলঙ্কার বড় স্কোরের পথ বন্ধ করে দেন রুবেল। পেরেরা ২ ও গুনারত্নে ৬ রান করেন।

দলের শেষ দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান ফিরে গেলেও শ্রীলঙ্কার ভরসা হিসেবে তখন টিকে ছিলেন চান্ডিমাল। একপ্রান্ত আগলে ধরে রেখেছিলেন তিনি। তার দিকেই তাকিয়েছিলো লঙ্কানরা। দলের স্কোর শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যেতে পারেন চান্ডিমাল, সেটির অপেক্ষায় ছিলো দল।

কিন্তু শ্রীলঙ্কার স্বপ্নে পানি ঢেলে দেন বাংলাদেশের রুবেল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পেরেরা ও গুনারতœকে তুলে নেয়া রুবেল, এবার ফিরিয়ে দেন চান্ডিমালকেও। ৩৩তম ওভারের শেষ বলে সাকিব আল হাসানকে ছক্কা হাঁকানোটিই ছিলো চান্ডিমালের ৭৪ বলের ইনিংসে একটি বড় শট। তাই ওই ১টি ওভার বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করেন চান্ডিমাল।

চান্ডিমাল যখন ফিরেন তখন ইনিংসের ১৫ বল বাকি ছিল। শেষ ১৫ ডেলিভারিতে শ্রীলঙ্কার বাকি ৩ উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ ও রুবেল। আকিলা ধনানঞ্জয়াকে ১৭ রানে ফিজ ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা শেহান মাদুশাঙ্কাকে ৭ রানে শিকার করেন রুবেল। ইনিংসের শেষ বলে দলীয় ২২১ রানে রান আউটের মাধ্যমে নিজেদের শেষ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের পক্ষে রুবেল ৪৬ রানে ৪টি এবং মোস্তাফিজ ২৯ রানে ২টি উইকেট নেন। এছাড়া ১টি করে উইকেট শিকার করেন মিরাজ, মাশরাফি ও সাইফউদ্দিন।

এ ম্যাচে বল হাতে মাত্র ৪ ওভার বোলিং করেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দুভার্গ্যের শিকার হয়ে ৪২তম ওভারের প্রথম ডেলিভারি শেষে মাঠ ত্যাগ করেন সাকিব। ইনিংসের ৪১তম ওভারে প্রথম ডেলিভারিতে এক্সট্রা কভারে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বাঁ-হাতে আঙ্গুলে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছাড়েন সাকিব।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

1 × four =