রাখাইন রাজ্যের মংডুতে গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর সেখানকার সেনাবাহিনী ও মগদের হামলা-নির্যাতনে এক মাসে মোট ৮৪ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সরকার। রোহিঙ্গা, হিন্দু, রাখাইনসহ অন্য নৃগোষ্ঠী এমনকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়েই নিহতের এই হিসাব দিয়েছে মিয়ানমারের তথ্য কমিটি।দেশটির সংবাদপত্রে বুধবার এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে গণহত্যার অভিযোগের মধ্যে মিয়ানমারের সরকারি এই ভাষ্য এলো।

এদিকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, রাখাইনে তাদের নির্বিচারে হত্যার পাশাপাশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, ধর্ষণ করা হচ্ছে নারীদের।রোহিঙ্গাদের ওপর এই দমন-পীড়নকে জাতিগতভাবে নির্মূল অভিযান হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মিয়ানমারের সমালোচনায় মুখর।মিয়ানমার সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে, রাখাইন রাজ্যে অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অতিরঞ্জিত খবর দিচ্ছে।সরকারের তরফে দেওয়া হিসাবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিহতদের সংখ্যা জানানো হয়। নিহত কারা কোন জনগোষ্ঠীর, তা জানানো হয়নি। তবে কয়েকদিন আগেই মংডুতে ২৮ হিন্দুর লাশ উদ্ধারের কথা সরকার জানায়, ফলে তারাও মোট নিহতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত বলে ধরে নেওয়া যায়। এক মাসে ৪৪ জন নিখোঁজ বলেও তথ্য কমিটি দাবি করেছে।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মংডুতে গত বছরের অক্টোবরের সহিংসতার পর এক বছরে নিহতের সংখ্যা ১৬৩ জন এবং এ সময়ে নিখোঁজের সংখ্যা ৯১।বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মংডু জেলায় মুসলিম রোহিঙ্গাদের জনাধিক্য রয়েছে। বাংলাদেশে এ দফায় পালিয়ে আসা পৌনে ৫ লাখ শরণার্থীর অধিকাংশই এই জেলার।

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

fourteen − 4 =