জহুর আহমদ স্টেডিয়ামকে বঞ্চিত করেছিলেন ইমরুল কায়েস ও শামসুর রহমান। ২০১৪ সালে এ মাঠে এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২৩২ রান করেছিলেন দুজন। সেদিন একটুর জন্য রেকর্ড হাতছাড়া হয়নি বিল উডফুল ও চার্লস ম্যাকার্টনির। কিন্তু চার বছর পর আরেক ফেব্রুয়ারিতেই আর রক্ষা হলো না। দ্বিতীয় উইকেট জুটির ‘অদ্ভুতুড়ে’ রেকর্ডটি ছিনিয়ে নিলেন কুশল মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা।

গতকাল দলের স্কোরে কোনো দাগ কাটার আগেই ফিরে গেছেন দিমুথ করুণারত্নে। শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কার অবশ্য তাতে কিছু যায়-আসেনি। মেন্ডিস ও ধনঞ্জয়া যে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেই তুলে ফেলেছেন ৩০৮ রান! শূন্য রানে প্রথম উইকেট পড়ার পর টেস্ট ইতিহাসে তাঁদের এই জুটিই সর্বোচ্চ। এ পথে তাঁরা ভেঙেছেন ৯২ বছর আগের এক রেকর্ড। ১৯২৬ সালে লিডস টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ২৩৫ রানের জুটি গড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিল উডফুল ও চার্লস ম্যাকার্টনি।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু হওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই টেস্টে রেকর্ডটি ভেঙে যেতে বসেছিল। কুমার সাঙ্গাকারার ট্রিপল সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপর্যয়ে পড়েছিল। ইনিংসের চতুর্থ বলেই আউট হয়েছিলেন তামিম ইকবাল। এরপরই দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন ইমরুল-শামসুর। ৬০ ওভারের বেশি সময় ধরে গড়া জুটিতে ২৩২ রান তুলেছেন দুজন। অজন্তা মেন্ডিসের বলে শামসুর বোল্ড হওয়াতেই ৩ রানের জন্য বেঁচে যায় উডফুল-ম্যাকার্টনির সেই রেকর্ড। শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে দুই শ রান তোলার ষষ্ঠ ঘটনার সাক্ষী হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ইমরুল-শামসুরকে।

কিন্তু আজ আর সেটা হয়নি। মেন্ডিস-ধনঞ্জয়া মিলে শুধু উডফুলদের রেকর্ডই ভাঙেননি, দলের স্কোরকে তিন শ পার করে দিয়েছেন। ফলে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে তিন শ রান করার প্রথম কৃতিত্বও দেখা হয়ে গেল আজ। এ জন্য অবশ্য ইমরুলকেও ধন্যবাদ দিতে পারেন মেন্ডিস। বাংলাদেশের এই ওপেনারের হাত না ফসকালে যে এসব রেকর্ড আর আলোর মুখ দেখত না!

আরও পড়ুনঃ   ‘মাশরাফির ছোঁয়ায় ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ’

শূন্য রানে প্রথম উইকেটের পর দ্বিতীয় উইকেটে দুই শ রান পার করার রেকর্ডগুলো:

জুটির রান জুটি প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল
৩০৮ মেন্ডিস-ধনঞ্জয়া(শ্রীলঙ্কা) বাংলাদেশ চট্টগ্রাম ২০১৮
২৩৫ ম্যাকার্টনি-উডফুল (অস্ট্রেলিয়া) ইংল্যান্ড লিডস ১৯২৬
২৩২ ইমরুল-শামসুর (বাংলাদেশ) শ্রীলঙ্কা চট্টগ্রাম ২০১৪
২৩০ সাটক্লিফ-টিলডেসলি (ইংল্যান্ড) দক্ষিণ আফ্রিকা জোহানেসবার্গ ১৯২৭
২১৭ ইয়ান চ্যাপেল-বিল লরি (অস্ট্রেলিয়া) ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্রিসবেন ১৯৬৮
২১৫ হেন্ডরি-উডফুল (অস্ট্রেলিয়া) ইংল্যান্ড সিডনী ১৯২৮
২০৩ জয়াসুরিয়া-সাঙ্গাকারা (শ্রীলণক্কা) পাকিস্তান লাহোর ২০০২

Comments

comments

একটি উত্তর লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen − eleven =